English ছবি ভিডিও
Bangla Font Problem?
শেষ আপডেট ৫:২৩ পূর্বাহ্ণ
ঢাকা, রবিবার , ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৭ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ধর্মের গঠন এবং বিবর্তন

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

১০-০৫-২০১৯, কায়েস সরকারঃ ধর্ম সর্বদা সভ্যতার একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে কাজ করে এসেছে। একদম শুরু থেকেই ইহা মানুষকে নৈতিক দীক্ষা দেওয়ার জরুরি কাজটি করে আসছে। আর এই ধর্মের জন্ম এবং এর বিবর্তন এর পিছনে কিছু কিছু মুল বিষয় ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে।

এই মূল বিষয়গুলো বুঝতে হলে আমাদের মানব ইতিহাসের গভীর পর্যায়ে দৃষ্টি দিতে হবে। আমরা যেই মানব প্রজাতির সদস্য, হোমো স্যাপিয়েন্স বা বুদ্ধিমান মানব, তা এই পৃথিবীতে আনুমানিক আড়াই লক্ষ বছর আগে আবির্ভাব করে। এই প্রায় পুরো সময় ধরেই আমরা যাযাবর শিকারি গোষ্ঠী হিসেবে বসবাস করে আসছিলাম। মানুষ ছোট ছোট গোত্রে বসবাস করত যাদের ছিল অনেক বিচিত্র ভাষা, সংস্কৃতি এবং আধ্যাত্মিকতা। এই অবস্থা অনেক হাজার বছর ধরে বিদ্যমান ছিল। কিন্তু দশ হাজার বছর আগে কৃষি বিপ্লবের মাধ্যমে এর পরিবর্তন শুরু হয়।

প্রথমে মধ্যপ্রাচ্যের একটি অঞ্চলে এই বিপ্লব শুরু হয়। যার কারণ প্রধানত একটি বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন। এই বিপ্লব মানুষের জীবনে অনেক পরিবর্তন বয়ে আনে। অনেক পুরনো যাযাবর জীবন ছেড়ে মানুষজন ছোট ছোট কৃষিভিত্তিক গ্রামে বসতি স্থাপন শুরু করে। প্রথমবারের মতো ব্যক্তিগত সম্পত্তির ধারণার জন্ম নেয়, যেমন ঘর, খামার, গবাদিপশু ইত্যাদি। এই নতুন উদ্ভাবিত জটিলতা সামাল দেওয়ার জন্য প্রশাসন গঠন করা শুরু হয়। গঞ্জ, শহর, রাজ্য এগুলো গঠিত হতে শুরু করে।

সেই সময়ে শহর, রাজ্য ইত্যাদি ছিল সম্পূর্ণ নতুন একটি ধারণা। এবং এদের প্রত্যেকটির মধ্যে ছিল বিভিন্ন গোত্রের মানুষ। যাদের ছিল বিভিন্ন ভাষা এবং সংস্কৃতি। মানুষজনের মধ্যে বৈচিত্রতা ছিল কল্পনাতীত। এত অসভ্য এবং জংলি ধরনের মানুষগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক কঠিন হয়ে পড়ছিল। এবং এখানেই ধর্মের পথ চলা শুরু।

ধর্ম মানুষদেরকে একটি নৈতিক মানদন্ড দেওয়ার প্রচেষ্টা চালায়। চেষ্টা করে এই বিশৃংখল জনতাকে একটি দিক নির্দেশনার অভ্যন্তরে আনার জন্য। এবং ইহা উক্ত বিষয়ে কার্যকরী হিসাবে নিজেকে প্রমাণ করে।

ধর্মের কিছু আদি উদাহরণ হচ্ছে পারস্যের যরোয়স্ত্রনিজম, চায়নায় কনফুসিয়ানিজম, ভারতে হিন্দু ধর্ম ইত্যাদি। এই ধর্মগুলো গঠিত হয় নবী ইব্রাহিমের জন্মেরও হাজারো বছর আগে। আর নবী ইব্রাহিম হচ্ছেন তিনি, যাকে ইহুদি, খ্রিস্টান এবং ইসলাম ধর্মের জনক বা আদি পিতা বলা হয়।

তো একটি প্রশ্ন মানুষের মনে আসতে পারে যে যেহেতু মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করাই ছিল মূল লক্ষ্য, তাহলে শুধু রাজনীতির ব্যবহার কেন করা হয়নি। কোথায় ছিল ধর্মের প্রয়োজনীয়তা?

কিন্তু ঘটনা হচ্ছে আমরা কথা বলছি ঐসব অসভ্য মানুষ নিয়ে যারা সবেমাত্র জঙ্গলের জীবন থেকে বেরিয়ে এসেছে। তারা অবশ্যই যথেষ্ট জ্ঞানী বা পরিণত ছিল না গণতান্ত্রিকভাবে একটি সমাজে বসবাস করার জন্য (এমনকি এখনও আমরা তা করতে হিমশিম খাচ্ছি)। সে সাথে জঙ্গলে কেউ কারো ধার ধারে না, সবাই তার নিজ দুনিয়ার রাজা। তো বল প্রয়োগ ছাড়া কাউকে কোন হুকুম মান্য করানো ছিল অসম্ভব। কিন্তু তাকে যদি এটা বিশ্বাস করানো যেত যে, এই হুকুমটি আসছে এমন কোন অতিপ্রাকৃতিক সত্তার কাছ থেকে যে তার, তার রাজা, সমগ্র জমিন সবকিছুর মালিক; তাহলে ব্যাপারটা ছিল ভিন্ন। একজন সবজান্তা, সর্বশক্তিমান প্রভুর এবং পরকালের ভয় তাকে বল প্রয়োগ ছাড়াই নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়।

এছাড়া ধর্ম এবং আধ্যাত্মিকতা ছিল মানুষের কৌতূহলী মনের গভীর প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। তো আদি চিন্তাবিদরা মানবিক বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে সব বুঝার চেষ্টা করত। যেমন বৃষ্টিকে একটি দেবতা দেওয়া এবং চিন্তা করা যে এই দেবতা কান্না করলে বৃষ্টি হয় আর চিৎকার করলে বজ্রপাত হয় এরকম চিন্তার একটি উদাহরণ। আর সে কান্না করে যখন তার বন্ধু সূর্য এবং চন্দ্র দেবতা কাছে থাকে না ইত্যাদি চিন্তাবলি একটি পরিপূর্ণ আধ্যাত্মিকতার সংগঠন করে।

নৃতাত্ত্বিক আবিষ্কার এবং পর্যবেক্ষণ এর উপর ভিত্তি করে ধর্মের শেকর এর উপর এই বিশ্লেষণস্বরূপ প্রবন্ধটি লিখা হয়েছে। আশা করা যায় যে ইহা আমাদের সমাজ কিসের ভিত্তিতে গঠিত তা বুঝতে সহায়তা করবে। এবং এই ধরনের জ্ঞানে আলোকিত জনগণ আমাদের সমাজকে ভালোভাবে চলতেও সহায়তা করবে। দিবে বিভিন্ন জীবন ব্যবস্থাকে সঠিকভাবে বিচার করার উপায়। বিশেষত যেখানে অনেক রাজনৈতিক এবং ধার্মিক বিষয়াদিকে অধিকতর গুরুত্ব এবং অন্ধবিশ্বাস এর সাথে নেওয়া হয়, এবং তার মাধ্যমে জন্ম হয় অনেক অশান্তির।

লেখকঃ কানাডা প্রবাসী,ফ্রিল্যান্স গবেষক


জনপ্রিয় বিষয় সমূহ: