English ছবি ভিডিও
Bangla Font Problem?
শেষ আপডেট ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
ঢাকা, শনিবার , ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নতুন পাঠ্যক্রম: অবাস্তব পরিকল্পনার দলিল

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail
বার্তা16 অনলাইন ডিসেম্বর ৩০, ২০১৯

৩০-১২-১৯ :  শিক্ষার পাঠ্যক্রম তৈরি একটি বিশেষজ্ঞ–কাজ। বিস্তর অধ্যয়ন, গবেষণা ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ শিক্ষাবিজ্ঞানীরাই পারেন কাজটি যথাযথভাবে সম্পাদন করতে। যেকোনো রকম অযাচিত হস্তক্ষেপ তা ভন্ডুল করে দিতে পারে। কিন্তু শিক্ষা নিয়ে কত আহাম্মকি এ দেশে চলছে, তার কিনার করা কঠিন। এ বিষয়ে ডাক পড়ে তাঁদের, যাঁরা শিক্ষাবিজ্ঞানের দরজা মাড়াননি কখনো। কমিটিগুলোয় পদাধিকারীদের আধিক্য ও প্রতাপ এত বেশি যে শিক্ষাবিজ্ঞানী যাঁরা থাকেন, তাঁদের কণ্ঠস্বর হারিয়ে যায়। আর মাথার ওপর ছড়ি ঘোরান আমলারা। পাঠ্যক্রমকে বলা হয় শিক্ষার মস্তিষ্ক। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নির্মাণের চাবিকাঠি। তাই সেটি প্রণয়নে দূরদর্শী শিক্ষাবিজ্ঞানীদের পরামর্শ নেওয়া ও তা বাস্তবায়নে তাঁদেরই দায়িত্ব দেওয়া উচিত। কিন্তু এ জাতির দুর্ভাগ্য, এই বিষয়ে শিক্ষাবিজ্ঞানীরা চিরকালই ব্রাত্য বলে বিবেচিত।

শিক্ষার পথরেখা রচনার দায়িত্ব যোগ্যতরদেরই করবার কথা। কিন্তু অনেক সময় সবজান্তা কিছু আমলা, দেশি-বিদেশি মতলববাজ পরামর্শক, দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার আর অবিশেষজ্ঞ শিক্ষকেরাও বাংলাদেশের শিক্ষার এই পথরেখা রচনার দায়িত্ব পেয়ে থাকেন। শুধু যে কারিকুলাম রচনায় এ অনিয়ম, তা–ই নয়, স্কুল-কলেজ পরিদর্শন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নেও। উদার, স্বাধীনচেতা, সাহসী, বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষাবিদ কিংবা বিজ্ঞানীদের কদর কম শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষা বোর্ডের স্কুল বা কলেজ পরিদর্শক, মাউশির প্রশিক্ষণ পরিচালক, নায়েম বা এইচএসটিটিআইয়ের প্রশিক্ষক, এমনকি টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোর শিক্ষক, অধ্যক্ষের পদ এখন অশিক্ষাবিজ্ঞানীদের দখলে। এনসিটিবি, মাউশির সর্বত্র এখন তাঁদেরই রমরমা। শিক্ষাবিজ্ঞানের সঙ্গে ন্যূনতম সম্পর্কহীন এসব প্রশাসক দিয়ে আর যা–ই হোক, কারিকুলাম প্রণয়ন, বাস্তবায়ন প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা পরিদর্শনের মতো বিশেষজ্ঞ–কাজ করানো অসম্ভব। কিন্তু আমরা অসম্ভবের পায়ে ভর দিয়ে হিমালয় উল্লঙ্ঘনের স্বপ্ন দেখি। তারই প্রতিফলন স্পষ্ট প্রস্তাবিত কারিকুলামের পরতে পরতে।

জাতীয় শিক্ষানীতি অনুসারে ২০১৮ সালের মধ্যে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক এবং চলমান উচ্চমাধ্যমিক স্তর বিলুপ্ত করে নবম-দ্বাদশ শ্রেণি মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত করার কথা ছিল। কিন্তু এ ক্ষেত্রে যেমন সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই, তেমনি তার কোনো প্রতিফলনও নেই প্রস্তাবিত কারিকুলামে। এনসিটিবির কর্তৃত্ব যেহেতু উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত, তাই এ পরিকল্পনায় পঞ্চম শ্রেণিতে প্রাথমিক সমাপনী, অষ্টম শ্রেণিতে জুনিয়র সার্টিফিকেট পরীক্ষা, দশম শ্রেণিতে মাধ্যমিক এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সেই বহু পুরোনো নিয়মই বহাল রাখা হচ্ছে। শুধু ফারাক দেখা যাচ্ছে এক জায়গায়—নবম-দশম শ্রেণি হবে মানবিক, বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষার মতো বিভাজনমুক্ত একমুখী শিক্ষা দিয়ে। উচ্চমাধ্যমিক যথারীতি মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষায় বিভাজিত থাকবে। সেটা নাকি পেশাগত শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যেই। কিন্তু সেখানেও গোঁজামিলের অন্ত নেই।


জনপ্রিয় বিষয় সমূহ: