English ছবি ভিডিও
Bangla Font Problem?
শেষ আপডেট ৪:৫৭ পূর্বাহ্ণ
ঢাকা, শনিবার , ৩০শে মে, ২০২০ ইং , ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সুখের সন্ধান: ভুটানি পন্থা

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail
বার্তা16 অনলাইন ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯

১৮-১২-১৯ : বিশ্বজুড়ে অনেক দেশের জনগণ ও সংগঠন ভুটানের সামগ্রিক জাতীয় সুখের (জিএনএইচ) মানব উন্নয়ন ভিশন গ্রহণ করার দাবি করে থাকে। তবে আসলে তারা যে বিষয়টি তুলে ধরছে তা জিএনএইচের ভিন্ন লোকজনের ধারণা। এর কয়েকটি দর্শনগত, কয়েকটি গবেষণাসমৃদ্ধ নির্মাণ এবং কয়েকটি বিকৃত তত্ত্ব। জিএনএইচকে অভিহিত করা হয় নান্দনিক দর্শন, উদ্দীপ্ত ধারণা, উন্নয়ন লক্ষ্য, উন্নয়ন পদ্ধতি ও জেগে ওঠার আহ্বান ইত্যাদি হিসেবে। এটি উচ্চাভিলাষী রাজনীতিবিদদের প্লাটফর্ম হিসেবে সমালোচিত হয়, স্রেফ কথার কথা, ফাঁকা প্রতিশ্রুতি, অর্থহীন নৈতিকতা, বিশুদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক ধারণা, শিক্ষাবিষয়ক বক্তব্য ইত্যাদি।
বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্য বলা যায়, এটি হলো বিজ্ঞতার সূচনা, পুরোটাই বিস্ময়কর বিষয়। আমিও জিএনএইচ নিয়ে আমার উপলব্ধি প্রকাশ করার মাধ্যমে এই বিভ্রান্তি আরেকটু বাড়িয়ে দিতে পারি, কিছু প্রতিক্রিয়া দেয়ার চেষ্টা করতে পারি, বিনিময়যোগ্য ধারণায় স্বচ্ছতা দিতে পারি।
জিএনএইচ সম্পর্কে বলার সময় আমি বিশ্বাস করি যে আমাদেরকে প্রথমে সুখের সংজ্ঞা দিতে হবে।
আমি জানি, বিশ্বের সবচেয়ে মহান মানুষগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সুখের সংজ্ঞা দিতে চেষ্টা করেছে, তবে আমি সুখের সংজ্ঞা দিতে চেষ্টা করব জিএনএইচের প্রেক্ষাপটে।জিএনএইচে সুখ কোনো হাস্যকর বিষয় নয়, কৌতুক নয়, রোমাঞ্চ নয়, উত্তেজনা নয়। এটা হলো আমাদের চেতনার জগতে থাকা গভীরতর ও স্থায়ী অনুভূতির বিষয়।
আমরা কি ভুটানের জিএনএইচ অর্জন করেছি? না।
ভুটানি সমাজে জিএনএইচ অর্জন করেছে? হ্যাঁ।
যে কেউ ভুটানে গেছেন, তিনি সেখানে পা ফেলার সাথে সাথে ভিন্ন এক পরিবেশের সাক্ষাত পেয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, এই অনুভূতি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পরিমার্জিত হয়ে এই পর্যায়ে এসেছে। আমরা এখন একেই বলি জিএনএইচ।
আমি জিএনএইচ সম্পর্কে আমার উপলব্ধি এখানে তুলে ধরছি। আমি জিএনএইচকে চারটি অবয়বে দেখি: সজ্ঞা, বুদ্ধিমত্তা, দায়িত্বশীলতা, উদীয়মান বিশ্বব্যবস্থা।
সজ্ঞা
সর্বপ্রথম আমি ভুটানের অতীত প্রজন্মগুলোর সজ্ঞা জিএনএইচ মূল্যায়ন করি। ছোট্ট পল্লী সম্প্রদায়গুলোর সদস্যরা পরস্পর নির্ভরশলি অস্তিত্ব হিসেবে পারস্পরিক উপলব্ধি হিসেবে এটি বিকশিত করেছিল। পল্লীর জ্যোতিষী, সাধারণ সন্ন্যাসী, গায়ক, কাঠমিস্ত্রি, তীর-ধনুক নির্মাতা, প্রবীণ ও তরুণ সবারই দায়দায়িত্ব ছিল।
বৌদ্ধ শিক্ষা থেকে গ্রহণ করা মূল্যবোধ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞতার আলোকে এই মূল্যবোধ গ্রহণ করা হয়েছিল। তারা তাদের কৃষি জীবনযাত্রা, জীবনব্যবস্থার আলোকে এই পদ্ধতির সাথে পরিচিত হয়েছিল।
১৯৮০-এর দশকে একটি গ্রামের কৃষকেরা শিখতে পেরেছিল যে ধানের ফলন দ্বিগুণ বাড়ানো মানে তাদের ধান উৎপাদন দ্বিগুণ হয়ে যাওয়া। কিন্তু পরের বছর তারা তা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল এই কারণে যে আমাদের তীর খেলার সময় নেই, উৎসব উপভোগ করার সময় নেই।
বুদ্ধিমত্তা
আরেকটি ধারণা আমি দেখেছি বুদ্ধিমত্তায়। আগেই আমি উল্লেখ করেছি যে জীবনের সব অবয়ব ও ধারণা এর মধ্যেই নিহিত থাকে। তারা ধ্যান থেকে বিষয়টি শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে।
দায়দায়িত্ব
আমার তৃতীয় ধারণা হলো, জিএনএইচ হরো সরকারি দায়দায়িত্ব। সরকারের দায়দায়িত্ব থাকে একে বিকশিত করার। আমরা থাইল্যান্ড, ব্রাজিল, কানাডায় জিএনএইচের সম্মেলনগুলোতে দেখতে পেয়েছি যে লোকজন তাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ভালো কাজ করছে।
আন্তর্জাতিক ধারা
জিএনএইচ আলোচনায় চতুর্থ ধারণাটি হলো আন্তর্জাতিককরণ। ভুটান বিশ্বের সব সমস্যা সমাধানের জন্য নিশ্চিতভাবেই কাজ করছে না। তবে আমি মনে করি, এ নিয়ে একটি সংলাপ হতে পারে, এটি একটি দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
জিএনএইচ-সম্পর্কিত ইস্যুগুলো নিয়ে অনেক গবেষণা ও বিশ্লেষণ হয়েছে। ভুটান জিএনএইচ নিয়ে তার নিজস্ব উপলব্ধি গভীর করার মাধ্যমে সেগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। আন্তর্জাতিক আলোচনাও ভুটানকে সমৃদ্ধ করতে পারে। কারণ আমাদেরকে জিএনএইচ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করার জন্য আরো গবেষণা ও বিশ্লেষণের দ্বারস্থ হতে হবে।
সবশেষে বলা যায়, ক্রমবর্ধমান উপলব্ধি তথা জিডিপির মূল্যবোধে চালিত জনসংখ্যা আসলেই দুনিয়াকে হজম করে ফেলছে। এ কারণে জিডিপি নিয়ে জিএনএইচের আলাদা অর্থ রয়েছে। একে বলা হয় গ্রস ন্যাশনাল প্রডাক্ট। মানব উন্নয়নের উচ্চকিত বার্তার প্রয়োজন জিডিপি-বহির্ভুত উচ্চতর লক্ষ্য। সূত্র: কুয়েনসেল

পালাবদল


জনপ্রিয় বিষয় সমূহ: