Tuesday, 19 Jun 2018
সর্বশেষ খবর
 

চলচ্চিত্রে মুক্তিযুদ্ধ



চলচ্চিত্রে মুক্তিযুদ্ধ

২৬ মার্চ ২০১৬: আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, আমাদের স্বাধীনতা- আমাদের অহঙ্কার। আর এই অহঙ্কার দেশীয় চলচ্চিত্রে ফুটে উঠেছে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্নভাবে। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পাশাপাশি স্বল্পদৈর্ঘ্য, মুক্তদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্যচিত্রে মহান মুক্তিযুদ্ধকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টায় আন্তরিকতার অভাব ছিল না নির্মাতাদের।

কেবল রাজনৈতিক মতবিরোধ আর সঠিক ইতিহাসসমৃদ্ধ কাহিনী না থাকায় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের সংখ্যা সমৃদ্ধ হতে পারেনি। তার পরও দেশপ্রেমী নির্মাতারা থেমে থাকেননি। এখনও নেই। যখনই সুযোগ পাচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন। প্রেক্ষাগৃহের পর্দায় সত্য কথা বলতে গিয়ে অনেক নির্মাতাকেই যথেষ্ট বিড়ম্বনার শিকারও হতে হয়েছে।

তার পরও আমাদের গৌরবের মুক্তিযুদ্ধ, দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর ৩ লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার চিত্র ফুটে উঠেছে সিনেপর্দায়। বেশির ভাগ ছবিই প্রশংসিত হয়েছে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের স্বীকৃতিও পেয়েছে।

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ৩৫-এর কাছাকাছি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়েছে। এসব ছবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ‘ওরা ১১ জন’, ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’, ‘জয় বাংলা’, ‘বাঘা বাঙালি’, ‘রক্তাক্ত বাংলা’, ‘সংগ্রাম’, ‘ধীরে বহে মেঘনা’, আমার জন্মভূমি’, ‘মেঘের অনেক রং’, ‘কলমিলতা’, ‘নদীর নাম মধুমতি’, ‘মুক্তির গান’, আগুনের পরশমণি’, ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’, ‘মেঘের পরে মেঘ’, ‘ধ্রুবতারা’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘খেলাঘর’, ‘জয়যাত্রা’, ‘মেহেরজান’, ‘আমার বন্ধু রাশেদ’, ‘খণ্ডগল্প ৭১’, ‘৭১-এর মা জননী’, ‘গেরিলা’, পিতা’, ‘রাবেয়া’, ‘জীবনঢুলী’। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও পরবর্তী ঘটনা নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘আবার তোরা মানুষ হ’, ‘আলোর মিছিল’, ‘স্লোগান’, ‘এখনো অনেক রাত’, ‘লাল সবুজ’, ‘কার হাসি কে হাসে’ ইত্যাদি চলচ্চিত্র। আর এসবের সূচনা হয়েছিল শহীদ চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেয়া’ দিয়ে। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন ও ’৬৯-এর গণ-আন্দোলন নিয়ে নির্মিত এ কালজয়ী চলচ্চিত্রটি আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে দুর্দান্ত ভূমিকা রাখে। একই ঘটনা অবলম্বনে বিখ্যাত লেখক আহমদ ছফার উপন্যাস ‘ওংকার’ নিয়ে শহীদুল ইসলাম খোকন নির্মাণ করেন ‘বাঙলা’।

এ ছাড়াও জহির রায়হানের ‘স্টপ জেনোসাইড’, ‘এ স্টেট ইজ বর্ন’, আলমগীর কবিরের ‘লিবারেশন ফাইটার্স’, ‘ইনোসেন্ট মিলিনিয়াম’, আইএস জোহরের ‘জয় বাংলাদেশ’, শুকদেবের ‘নাইন মান্থ টু ফ্রিডম’, গীতা মেহতার ‘ডেডলাইন বাংলাদেশ’ নামক মুক্তদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্রগুলোও বিশ্ব বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিল। জহির রায়হান স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালের দলিলপত্র ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ নির্মাণ করতে করতে স্বাধীনতার দেড় মাস পর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেলে এ ছবিটি আর আলোর মুখ দেখেনি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে স্বল্পদৈর্ঘ্য এবং প্রামাণ্যচিত্রের তালিকাও বেশ লম্বা।

‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে’, ‘একাত্তরের যিশু’, ‘আগামী’, ‘হুলিয়া’, ‘সূচনা’, ‘প্রত্যাবর্তন’, ‘ওরা আসছে’, ‘ধূসরযাত্রা’, ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা’, ‘দুরন্ত’, ‘বখাটে’, ‘সেই রাতের কথা বলতে এসেছি’, ‘শরৎ ৭১’, ‘আমি স্বাধীনতা এনেছি’, ‘অনেক কথার একটি কথা’, ‘অন্যযোদ্ধা’, ‘কাল রাত্রি’, ‘অস্তিত্বে আমাদের দেশ’, ‘শিলালিপি’, ‘রিফুইজি ৭১’, ‘দি কান্ট্রি অব ডিজাস্টার’, ‘জয় বাংলা ও বহমান’ ইত্যাদি। মহান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র নির্মাণ হচ্ছিল এবারের স্বাধীনতা দিবসে মুক্তি দেয়ার লক্ষ্য নিয়েও। ‘পোস্ট মাস্টার ৭১’ নামের একটি ছবি মুক্তির কথা থাকলেও নানা জটিলতায় তা আর হয়নি।


সর্বশেষ খবর