Tuesday, 19 Jun 2018
সর্বশেষ খবর
 

বার্থওয়েটের দানবীয় ব্যাটিংয়ে চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ



বার্থওয়েটের দানবীয় ব্যাটিংয়ে চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ

০৩ এপ্রিল ২০১৬: সেমিফাইনালে ভারতকে হারানোর পর থেকেই চ্যাম্পিয়ন, চ্যাম্পিয়ন স্লোগান দিয়ে আসছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। রোববার রাতে ইডেন গার্ডেন্সে যেটি বাস্তবে পরিণত করেছে ক্যারিবিয়ানরা। ইংল্যান্ডকে দুঃস্বপ্ন উপহার দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ জিতে নিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইংল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে টি-২০ ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ফিরে পেল ক্যারিবিয়ানরা। ২০১২ সালের পর আবারও চ্যাম্পিয়ন হলো ড্যারেন স্যামির দল।

জয়ের জন্য শেষ ৬ বলে ১৯ রান দরকার ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। স্ট্রাইকে ছিলেন আনকোরা বার্থওয়েট। কিন্তু বেন স্টোকসের করা ওভারের প্রথম বলেই স্কয়ার লেগ ছক্কা মারেন তিনি। পরের বলের গন্তব্যও একই। শুধু স্থান পরিবর্তন করে লং অন দিয়ে। তৃতীয় বলে লং অফ দিয়ে উড়ে সীমানা পার হওয়া বলটা দেখতে দেখতে ক্লান্তিতে বসে পড়লেন বেন স্টোকস। বসে কেঁদেই ফেললেন ইংল্যান্ডকে অবিশ্বাস্য হতাশা উপহার দেয়া এ বোলার। চতুর্থ বলেও থামেনি বার্থওয়েটের নিষ্ঠুরতা। এবার ডিপ মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা মেরে বিশ্বকাপের ফাইনালে দলকে জেতালেন বার্থওয়েট। ১০ বলে ১টি চার ও ৪টি ছক্কায় অপরাজিত ৩৪ রান করেন তিনি। তবে ক্যারিবিয়ানদের জয়ের নায়ক হিসেবে স্যামুয়েলসকেই এগিয়ে রাখতে হবে। একপ্রান্ত আগলে এ অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান খেলে গেছেন ইনিংস জুড়ে। ৬৬ বলে ৯টি চার ও ২টি ছয়ে অপরাজিত ৮৫ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলেছেন স্যামুয়েলস।

প্রথমে ব্যাট করে জো রুটের হাফ সেঞ্চুরিতে ৯ উইকেটে ১৫৫ রান তোলে ইংল্যান্ড। জবাবে স্যামুয়েলসের হাফ সেঞ্চুরি ও বার্থওয়েটের টর্নেডো ব্যাটিংয়ে ১৯.৪ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬১ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ইংল্যান্ডের মতোই ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভয়াবহ। ১৫৬ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে দলীয় ১১ রানেই সাজঘরে ফিরেন তিন ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে রুটের শিকার হন জনসন চার্লস (১) ও ক্রিস গেইল (৪)। দুজনেই বেন স্টোকসের হাতে ক্যাচ দেন। চতুর্থ ওভারে উইলির বলে এলবির ফাঁদে পড়েন লেন্ডল সিমন্স (০)। চতুর্থ উইকেটে স্যামুয়েলস ও ব্র্যাভো দলের হাল ধরেন। তারা ৭৫ রানের জুটি গড়েন।

ব্যক্তিগত ১১ রানে দ্বাদশ ফিল্ডার স্যাম বিলিংসের হাতে জীবন পাওয়া ব্র্যাভো ফিরেছেন আদিল রশিদের শিকার হয়ে। তিনি ২৫ রান করেন। একপ্রান্ত আগলে দলকে এগিয়ে নেন নবম হাফ সেঞ্চুরি করা স্যামুয়েলস। ১৬তম ওভারে উইন্ডিজদের ব্যাকফুটে ঠেলে দেন উইলি। জোড়া শিকার করেন তিনি। প্রথম বলে ডিপ মিড উইকেট বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন আন্দ্রে রাসেল (১)। তৃতীয় বলে ডিপ কভারে ধরা পড়েন ড্যারেন স্যামি (২)।

তারপরই শুরু হয় স্যামুয়েলস-বার্থওয়েটের তান্ডব। তাদের ব্যাটের তোড়ে উড়ে যায় রান-বলের দূরত্ব। ২৫ বলে ৫৪ রানের জুটি গড়েন তারা। শেষ ওভারে বার্থওয়েটের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ম্যাচ জিতে যায় উইন্ডিজরা। ইংল্যান্ডের উইলি ৩টি, রুট ২টি করে উইকেট পান।

এর আগে ইডেনের রানের উইকেটে ইনিংসের আগাগোড়াই ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনকে কাঁপিয়েছেন ক্যারিবিয়ান বোলাররা। যা কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছেন শুধু জো রুট। জস বাটলারের সঙ্গে তার জুটি ১৭০-৮০ রানের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল। কিন্তু মাঝপথে ২ রানে ৩ উইকেট পতনে বিনষ্ট হয় সে সম্ভাবনা। তারপরও দেড়শো পার হয়েছে ইংল্যান্ড লোয়ার অর্ডারে ছোট ছোট কয়েকটি ইনিংসের উপর ভার করে।

শুরুতে ২৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারেই চলে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। স্যামুয়েল বদ্রির করা ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই বোল্ড হন জ্যাসন রয় (০)। পরের ওভারে অ্যালেক্স হেলস (১) ফিরেন শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে। ৮ রানে ২ উইকেট পড়া দলের ভরসা হতে পারেননি অধিনায়ক মরগান (৫)। বদ্রির গুগলিতে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন তিনি।

ওই অবস্থা থেকে দলকে টেনে তুলেন জো রুট ও জস বাটলারের ৬১ রানের জুটি। ১২তম ওভারে বাউন্ডারিতে ব্র্যাভোর হাতে ধরা পড়েন বাটলার। তিনি ২২ বলে ৩৬ রান করেন। ১৪তম ওভারে জোড়া আঘাত হানেন ব্র্যাভো। দলীয় ১১০ রানে স্লোয়ার বাউন্সারে স্টোকস (১৩) ক্যাচ দেন সিমন্সের হাতে। লেগ স্ট্যাম্পের বাইরে থাকা স্লোয়ার বল মঈন আলীর (০) গ্লাভসে চুমো খেয়ে জমা পড়ে রামদিনের বিশ্বস্ত হাতে।

৩৩ বলে ৪র্থ হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন রুট। যা এবার বিশ্বকাপের সবচেয়ে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরি। ১৫তম ওভারে রুট স্কুপ খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন সুলেমান বেনের হাতে। তিনি ৩৬ বলে ৭টি চারে ৫৪ রান করেন। শেষ দিকে উইলির ২১ ও জর্ডানের অপরাজিত ১২ রানে দেড়শো পার হয় ইংল্যান্ডের স্কোর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্র্যাভো, বার্থওয়েট ৩টি করে ও বদ্রি ২টি করে উইকেট নেন।


সর্বশেষ খবর