Tuesday, 22 May 2018
সর্বশেষ খবর
 

বুয়েটের ওয়েব সাইটে ত্রুটি ধরিয়ে দিল ১৭ বছর বয়সী বাংলাদেশী কিশোর



বুয়েটের ওয়েব সাইটে ত্রুটি ধরিয়ে দিল ১৭ বছর বয়সী বাংলাদেশী কিশোর

রাজীব হাসান শাওন। বয়স ১৭। যারা হ্যাকিং নিয়ে নিজেদেরকে জড়িয়েছেন তারা হয়তো তাকে চিনে থাকবেন। বাংলাদেশকে সাইবার স্পেসে শত্রুমুক্ত রাখার জন্য এখন পর্যন্ত তিনি শতাধিক উচ্চ লেভেলের সাইটের ত্রুটি ধরিয়ে দিয়েছেন। অনেক আশা নিয়ে সাইবার স্পেসে পা রেখেছিলেন ২০১২ সালে। প্রথম দিকে এতোটা সক্রিয়ভাবে নিজেকে না জড়ালেও তার কিছুসময় পরেই সে তার মূল কার্যক্রম শুরু করে। যার ফলশ্রুতিতে ২০১৫ সালে নিজেই খুলেছিলেন একটি হ্যাকিং টীম, যা "ইনোমিনেট" নামে পরিচিত। এরপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। সফলতা ছিলো তার একমাত্র সঙ্গী। কিন্তু তিনি খেয়াল করলেন, সে বাইরের দেশের সাইটে কি আক্রমন করবে বাংলাদেশের সরকারী এবং উচ্চ লেভেলের সাইটগুলোতেই যেখানে অত্যন্ত বাজে অবস্থা। তাই হ্যাকিংটাকে পুরোপুরী না বাদ দিয়ে, বাংলাদেশের উচ্চ লেভেল এবং খুব শক্তিশালী সাইটগুলোতে ত্রুটি ধরিয়ে দিতে শুরু করেন। গত ২৬ অক্টবার তিনি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল-সম্পর্কিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বুয়েট) এর Petroleum and Mineral Resources Engineering Department এর ওয়েবসাইটের ত্রুটি ধরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ওয়েব সাইট টির এডমিনদেরকে মেইল করে সতর্ক করেছেন এবং ওয়েবসাইট এর নোটিস বোর্ড এ একটি ক্ষুদ্র বার্তা দিয়েছেন । যদিও এর আগেও অনেকেই এই ত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে বুয়েটকে জানিয়েছে । কিন্তু বুয়েট সেইসব ত্রুটি এখন পর্যন্ত সংশোধন করছে না । তিনি জানান ওয়েব সাইট টির এডমিন প্যানেলে একটি প্রাইভেট এক্সপ্লোইট এর মাধ্যমে সহজেই প্রবেশ করা যাই । তার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি আমাদেরকে জানান, তিনি তার এই কার্যক্রম সর্বক্ষণ চালিয়ে যাবেন, যত দিন না পর্যন্ত বাংলাদেশ সাইবার স্পেসে নিরাপদ অবস্থানে না পৌছাতে পারে। সম্প্রতি তিনি আরো কিছু বড় বড় সাইটে ত্রুটি ধরিয়ে দিয়েছেন, এ ব্যাপারে সাইটের কর্তৃপক্ষরাও তার প্রতি কৃতজ্ঞ বলে জানিয়েছেন। তিনি আরো জানিয়েছেন," যারা বাংলাদেশের সাইবার স্পেসকে নিরাপদ রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, তাদেরকে যদি যথার্থ সম্মানীটা দেওয়া হয় তাহলে হ্যাকাররাও দেশের জন্য উদ্বুদ্ধ হবে কাজ করতে। আমরা আশা করবো সরকার এ ব্যাপারে দৃষ্টি দেবেন।" সাইটের কোনো প্রকার ক্ষতি না করে শুধু ত্রুটি ধরিয়ে, যে মহানুভবতার পরিচয় তরুণরা দিয়ে যাচ্ছে তারা প্রকৃতপক্ষে এক একজন সাইবার যোদ্ধা। যদিও এর আগেও অনেকবার অনেক বাংলাদেশি হ্যাকার বুয়েটের এই ত্রুটি চিহ্নিত করে বুয়েটে জানিয়েছে, কিন্তু বুয়েট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত তাদের সাইটের সিকিউরিটি জোরদার করছে না। ফলশ্রুতিতে অনেকবার বুয়েটের ওয়েবসাইট ডিফেইজ হয়ে বারবার ক্ষতির সম্মুক্ষিণ হয়েছে। বুয়েটের এইসব ত্রুটির তথ্য এক হ্যাকারের কাছ থেকে আরেক হ্যাকারের কাছে যাচ্ছে এবং প্রতিবারেই তারা রাজীব হাসান শাওন এর মতো নিজেদের প্রচার করছে। পরবর্তীতে প্রজন্ম যাতে এ ব্যাপারে উৎসাহিত হয়ে এগিয়ে আসে, সে ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতনতা সৃষ্টি করাটাই দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে।


সর্বশেষ খবর