English ছবি ভিডিও
Bangla Font Problem?
শেষ আপডেট ১:৫৪ অপরাহ্ণ
ঢাকা, শুক্রবার , ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আমনের বাম্পার ফলন, দামে খুশি কৃষক

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail
বার্তা16 অনলাইন নভেম্বর ১৯, ২০২০

যশোরের মণিরামপুরে চলতি মৌসুমে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। সোনালী স্বপ্ন ঘরে তুলতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন এই অঞ্চলের কৃষক। ধান ওঠার শুরু থেকে দাম ভালো পাওয়ায় হাঁসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে হাজার টাকায়। এছাড়া ধানের দামের পাশাপাশি এবার বিছালীর দামও ভালো। গতবছর যেখানে আমন চাষ করে মণপ্রতি ২০০-৩০০ টাকা ক্ষতি হয়েছে কৃষকের, এবার বিঘাপ্রতি সেই আমনে তারা লাভ গুনছেন ১৫-২০ হাজার টাকা।

কৃষকরা বলছেন, দেশে গোখাদ্যের বেশ সংকট। চলতি মৌসুমে আমন চাষ করতে তাদের বিঘাপ্রতি সাত-আট হাজার টাকা খরচ হয়েছে। শুধু বিছালী (গোখাদ্য) বিক্রি করে তাদের খরচ উঠে যাচ্ছে। প্রতি কাউন বিছালী বিক্রি হচ্ছে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক প্রভাষ মণ্ডল এবার তিন বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। সেই জমির ধান ও বিছালী (গোখাদ্য) বেচে তিনি ৮২ হাজার টাকা পেয়েছেন।

উপজেলার ষোলখাদা গ্রামের কৃষক বদরউদ্দিন মোড়ল বলেন, সাড়ে তিনবিঘা জমিতে আমন চাষ করেছি। মাঠে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় ফলন কিছুটা কম হয়েছে। বিঘাপ্রতি সাত থেকে আট হাজার টাকা খরচ করে ১৮-১৯ মণ করে ধান পেয়েছি। গতবছরের তুলনায় এবার লাভ হয়েছে খুব।

পট্টি গ্রামের কৃষক সুশান্ত ঘোষ বলেন, ১০-১২ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছি। বিঘাপ্রতি খরচ ১০ হাজার টাকা। ধান পেয়েছি ১৬-১৭ মণ করে। ধানের দাম ও ফলনে আমরা খুশি।

মাহমুদকাটি গ্রামের প্রান্তিক কৃষক নূর আলম বাবু বলেন, ১২ কাঠা জমিতে গুটিস্বর্ণ চাষ করেছি। এখনো ধান বাড়ি আনিনি। কাঠায় মণ মণ হবে বলে আশা করি। তাছাড়া বিছালী বিক্রি করা যাবে অন্তত চার হাজার টাকার। বিলের জমি হওয়ায় সার লাগিনি। ১২ কাঠায় খরচ হয়েছে মাত্র তিন হাজার টাকা।

একই গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, একবিঘা ১২ কাঠা জমিতে আমন চাষ করেছি। ফলন যা পাইছি মোটামুটি ভালো। অন্তত লস হবে না। শহিদ হোসেন নামে অপর কৃষক বলনে, এবার আমনধান খারাপ হয়েছে এমন কথা কোন কৃষক বলতে পারবেন না।

টেংরামারী বাজারের আড়ৎদার ফয়েজ উদ্দিন বলেন, এবার আমনের বাজার ভালোো। শুরুতে প্রতিমণ ধান কিনেছি ৯৮০ টাকায়। এখন দর এক হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে উপজেলার রোহিতা, কাশিমনগর, খোদাপাড়, ঝাঁপা, হরিহরনগর, চালুয়াহাটি, মশ্মিমনগর, শ্যামকুড়, ভোজগাতী, খানপুরসহ সব ইউনিয়নে আমন চাষ হয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির ধানের মধ্যে গুটিস্বর্ণ (মোটা) ধানের ফলন সবচেয়ে বেশি।

মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার পূর্বপশ্চিমকে বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২২ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। ফলনও বেশ ভালো। হেক্টরপ্রতি আমনের ফলন পাঁচ থেকে ছয় মে. টন। যা লক্ষমাত্রা ও গত বছরের তুলনায় ভালো। এবার ধানের বাজারও চড়া। এমন দাম পেলে আগামীতে ধান চাষে কৃষক আরো উৎসাহিত হবেন বলে আশা করছি।


জনপ্রিয় বিষয় সমূহ: