English ছবি ভিডিও
Bangla Font Problem?
শেষ আপডেট ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
ঢাকা, শুক্রবার , ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

এখন শুধু সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা: প্রধানমন্ত্রী

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail
বার্তা16 অনলাইন মার্চ ১৭, ২০২১

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ‘মুজিব চিরন্তন’ নামের ১০ দিনের অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এখন শুধু আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা। পেছনে ফিরে তাকানোর কোনো সুযোগ নেই। 

তিনি বলেন, ‘সকল বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে দেশকে আমরা জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের শোষণ-বঞ্চনামুক্ত, ক্ষুধা-দারিদ্র্য-নিরক্ষরতামুক্ত, অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবই, ইনশাআল্লাহ। এটাই আজকের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা।’

বুধবার বিকালে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাধীনতার অর্ধশতক পরও স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। বাংলাদেশবিরোধী অপশক্তি এখনও দেশে-বিদেশে সক্রিয় রয়েছে। তারা নানা অপতৎপরতার মাধ্যমে এ অর্জনকে নস্যাৎ করতে চায়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের শুভ জন্মদিনে আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সকল অপতৎপরতা প্রতিহত করে প্রিয় মাতৃভূমিকে উন্নয়ন-অগ্রগতির পথ ধরে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাই।’

জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির প্রতীক্ষার প্রহরের অবসান হতে চলেছে। আজ এমন এক সময়ে আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করতে যাচ্ছি, যখন বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে মর্যাদাশীল উন্নয়নশীল দেশের কাতারে সামিল হওয়ার চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে।’

গত ১২ বছরে দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিক চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মাথাপিছু আয় দুই হাজার মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। দারিদ্র্যের হার ২০.৫ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। দেশ খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। মানুষের গড় আয়ু ৭৩ বছরে উন্নীত হয়েছে। আর্থ-সামজিক সূচকে বাংলাদেশ প্রভূত উন্নয়ন সাধন করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত ১২ বছরের নিরলস প্রচেষ্টা এবং জনগণের ঐকান্তিক পরিশ্রমের ফসল আজকের এই প্রাপ্তি।’

বাংলাদেশ করোনা মহামারিও সফলভাবে মোকাবেলা করতে পেরেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ”মুজিব চিরন্তন’ প্রতিপাদ্যে ১৭ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত আমরা দেশে এবং বিদেশে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। আজ তার সূচনাপর্ব। তবে আমাদের উৎসব ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলতে থাকবে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার সমন্বয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এবং ভ্রাতৃপ্রতীম দেশটির জনগণকে শুভেচ্ছা জানান বঙ্গবন্ধু কন্যা।

‘মুজিব চিরন্তন’ অনুষ্ঠান উপলক্ষে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা শুভেচ্ছাবাণী পাঠিয়েছেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি দেশবাসীর পক্ষ হতে তাদের ও তাদের দেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকায় তার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার-নেতা, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশপাশি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সালাম জানান শেখ হাসিনা।

জাতির পিতার সংগ্রামী জীবনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাঙালির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধু ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ মাতৃভাষার মর্যাদা অর্জনের যে সংগ্রাম শুরু করেছিলেন, সে ধারাবাহিক সংগ্রামের সাফল্যের ফসলই আমাদের স্বাধীনতা।’

স্বাধীনতা সংগ্রাম ও যুদ্ধপরবর্তী দেশ গড়ার কাজে যেসব বন্ধুপ্রতীম দেশ ও নেতা বাংলাদেশকে সাহায্য করেছিলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।

এর আগে বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। এর পরপর সস্ত্রীক আসেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। একটু পরেই মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ও তার স্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। তাদের স্বাগত জানান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

বিকেল সাড়ে চারটার পরপরই শত শিশুর কণ্ঠে জাতীয় সংগীত ও দেশাত্মবোধক গানের মধ্য দিয়ে  ‘মুজিব চিরন্তন’ অনুষ্ঠানের শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি বিটিভিসহ বিভিন্ন টেলিভিশন ছাড়াও সমকালের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজেও সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে। 

শিশুরা জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে শুরু করে তাদের পরিবেশনা। একে একে কয়েকটি দেশের গান শোনা যায় তাদের কণ্ঠে। ‘আমি জাতির পিতার স্বপ্নের দেশে জন্ম নিয়েছি’ গানটি দিয়ে শিল্পকলা একাডেমির শিশুদের এই পরিবেশনা শেষ হয়। এ সময় শিশুদের মুখে মাস্ক পরা ছিল। 

এরপর অনুষ্ঠানের সঞ্চালনাক সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের অনুরোধে অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধান অতিথি রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও সম্মানিত অতিথি মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ মঞ্চে আসেন। এ সময় তাদের সবার মুখে মাস্ক ছিল।

পরে কোরআন তিলাওয়াত, গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল পাঠ করা হয়। পরে একিট ভিডিও অ্যানিমেশন ও মুজিব শতবর্ষের থিম সং পরিবেশিত হয়।

এ উৎসবে যোগ দিতে বুধবার সকালে ঢাকায় পৌঁছান মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ। আয়োজনে আরও যোগ দেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে, নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারি ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, নগরাবাসী বলছে, ছোট আতিক আমাদের কামড় দিচ্ছে। আমি শুনেছি, অনেক মানুষ মশায় কামড়ানো নিয়ে সমালোচনায় এসব বলেন।

বুধবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকা বারিধারা পার্কে ডিএনসিসি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম এমপি। এ সময় নাহিদ ইজাহার খান এমপি, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। 

অনুষ্ঠানে তাজুল ইসলাম ঘোষণা দেন, যেসব বাসাবাড়িতে, ছাদে বৃক্ষরোপণ অর্থাৎ ছাদবাগান করা হবে, সেসব বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স দশ শতাংশ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা কীভাবে মশার এ সমস্যা সমাধান করতে পারি তা নিয়ে কাজ করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মশা নিয়ন্ত্রণে অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে। আমি আপনাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, আসুন মশা নিয়ন্ত্রণে খোলামেলা আলোচনা করি।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক বজায় রাখায় বিশ্বাসী। আমাদের দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে সব উন্নয়ন সহযোগী দেশ এবং সংস্থাকে আমরা স্বাগত জানাই। 

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার দেশের মাটি ও মানুষ, সংস্কৃতি, গাছপালা এবং পশু-পাখিদের জানি। তাই উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থার অর্থায়নে প্রকল্প নির্বাচন, বাস্তবায়নের সময় আমাদের চিন্তাচেতনা ও সিদ্ধান্তের সঙ্গে সমন্বয় করে করা উচিত।


জনপ্রিয় বিষয় সমূহ: