English ছবি ভিডিও
Bangla Font Problem?
শেষ আপডেট ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
ঢাকা, শুক্রবার , ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

করোনায় মৃত্যু শুরুর ১ বছর: বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কতটা পাল্টেছে

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail
বার্তা16 অনলাইন মার্চ ১৮, ২০২১

এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৪ঠা জানুয়ারি থেকেই দেশের বিমানবন্দরসহ সব স্থল ও নৌবন্দরে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু করে।

পহেলা মার্চ সব সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে শয্যা সংখ্যার আনুপাতিক হারে আইসোলেশন ইউনিট খোলার নির্দেশ দেয়া হয় এবং ৪ঠা মার্চ সমন্বিত করোনা কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়।

এর সাতদিন পর ৮ই মার্চ দেশের প্রথম করোনা সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্তের পর তা দ্রুত নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুরের শিবচর ও ঢাকার মিরপুরে ছড়িয়ে পড়ে।

শুরুর দিকের স্বাস্থ্য অবকাঠামো

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী শুরুতে আইইডিসিআর ছাড়া দেশে করোনা পরীক্ষার জন্য আর কোথাও আরটি পিসিআর ল্যাবরেটরি ছিলো না।

তা দিয়ে গত বছর ১৮ই মার্চ মাত্র দশটি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিলো আর তাতে পজিটিভ হয়েছিলেন ৪ জন।

পরদিন ১৯শে মার্চ স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত ব্রিফিং-এ প্রথম কোন ব্যক্তির মৃত্যুর কথা জানায় অর্থাৎ করোনায় সংক্রমিত হয়ে ১৮ই মার্চ ওই ব্যক্তি মারা গিয়েছিলেন।

সেদিনই জানানো হয়েছিলো যে নতুন করে ১৬টি আরটি পিসিআর মেশিন ক্রয় করার প্রক্রিয়া চলছে যার মধ্যে সাতটি দ্রুত পাওয়া যাবে।

এছাড়া চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য ৬ হাজার সেট পিপিই মজুত আছে এবং এর আগে আরও প্রায় সাত হাজার পিপিই হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করা হয়েছিলো বলে জানানো হয়েছিলো।

ওদিকে গত বছর মার্চে সরকারি হাসপাতালে ৫০৮টি আইসিইউ শয্যা ও বেসরকারি হাসপাতালে ৭৩৭টি আইসিইউ শয্যা ছিলো এবং ভেন্টিলেটর ছিলো ১৬৪টি।

সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই সময় দেশে সরকারি হাসপাতালে ৬৫৪টি এবং এসব হাসপাতালে মোট শয্যার সংখ্যা ছিলো ৫১,৩১৬টি। আর বেসরকারি হাসপাতাল ছিলো ৫,০৫৫টি, যেখানে মোট শয্যার সংখ্যা ছিলো ৯০ হাজার ৫৮৭টি।

তখন ঢাকায় আইসোলেশন শয্যা ছিলো ১ হাজার ৫০টি । আর ঢাকা মহানগরীর বাইরে ঢাকার অন্যান্য জেলায় আইসোলেশন বিছানার সংখ্যা ২২৭, চট্টগ্রামে ৪৪১, রাজশাহীতে ৫৫৮, বরিশালে ৪২৯, রংপুরে ৫২৫, সিলেটে ৬৬৪, ময়মনসিংহ ৯০, খুলনায় ৫৩১।

স্বাস্থ্য অবকাঠামো: এখন যে অবস্থা

স্বাস্থ্য বিভাগের হিসেবে এখন ১৬৩টি কেন্দ্রে কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ পরীক্ষা হচ্ছে যার মধ্যে আরটি পিসিআর ল্যাবরেটরি আছে ১১৮টি।

তবে এর মধ্যে সরকারি ল্যাব আছে মাত্র ৫১টি।

সব মিলিয়ে এ মূহুর্তে সারাদেশে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে মোট ১০ হাজার ৩০৫টি সাধারণ শয্যা ও ৫৫৮টি আইসিইউ শয্যা আছে।

পাশাপাশি এখন দেশে অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে ১২ হাজার ৭৭৩টি। আর হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা আছে ৭১৫টি এবং অক্সিজেন কনসেনট্রেটর আছে ৬৬০টি।

তবে কোভিড ও নন-কোভিড মিলিয়ে এ মূহুর্তে অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে ২৪ হাজার ৭১১টি, আইসিইউ ৬৮৮ এবং ভেন্টিলেটর আছে ৬২০টি।

আর ১১৮টি প্রতিষ্ঠানে আরটি পিসিআর টেস্ট করার তথ্য দেয়া হয়েছে ১৭ই মার্চ পর্যন্ত যাতে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৪ হাজার ২৭৫টি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এ সময়ের মধ্যে নতুন করে ২ হাজার চিকিৎসক ও ৪ হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

এছাড়া সারা দেশে ৫ হাজার ১০০ ডাক্তার ও ১ হাজার ৭০০ নার্সকে করোনা ভাইরাস ব্যবস্থাপনা ও ইনফেকশন প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

১৭ই মার্চ পর্যন্ত দেশে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৩ লাখ ৪ হাজার ৮৫৭টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হয়েছে ১০ লাখ ২৩ হাজার ৪১২টি।

প্রত্যাশিত অগ্রগতি কতটা হয়েছে?

করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে এ রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেলে পরিস্থিতি কেমন হবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যেই।

আবার করোনার বাইরে দেশে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ নানা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলোতে যেতে হয়।

এসব হাসপাতালে জরুরি সেবা থেকে শুরু করে সার্বিক অবকাঠামোগত ক্ষেত্রে নতুন কোন পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা।

মুশতাক হোসেন বলছেন করোনা চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা বেড়েছে আবার উপকরণও সহজলভ্য হয়েছে। কিন্তু এই এক বছরে সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার কাঠামোগত কোন পরিবর্তন হয়নি।

“এমনকি করোনাও যদিও ২/৩ গুণ বেড়ে যায় তাহলে সামাল দেয়া কঠিন হবে। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও চিকিৎসা সুবিধা আরও অনেক বাড়াতে হবে। কোভিড-উত্তর চিকিৎসা বা পুনর্বাসনকেও প্রাতিষ্ঠানিক করা যায়নি। হাসপাতালগুলো এমনকি পরিচ্ছন্নতা শতভাগ নিশ্চিত করা যায়নি। এটি না করে পিপিই দিলে লাভ নেই,” বলছিলেন তিনি।

তিনি বলেন স্বাস্থ্য খাতের পাঁচটি বিভাগে – প্রতিরোধমূলক, অবকাঠামো উন্নয়নমূলক, চিকিৎসা, পুনর্বাসন, উপশমমূলক — এর সবগুলোতেই উন্নতির দরকার। কিন্তু এখানে রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি।

“দেশের সব হাসপাতালে আইসোলেশন বা যথাযথ জরুরি সেবা সুবিধাই নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি এখনো।”

আর বেনজির আহমেদ বলেন অবকাঠামোগত সুবিধার আদৌ কোন উন্নতি হয়নি।

“করোনা আসার পর স্বাস্থ্য খাতের যে দুর্বল ও ভঙ্গুর চিত্র প্রকাশিত হয়েছে সেটিকে বিবেচনায় নিয়ে এতে পরিবর্তন এনে সক্ষমতা বাড়াতে কোন কাজই হয়নি,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্যে সক্ষমতা বাড়েনি বরং স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতিশ্রুত অর্থ না দেয়া, মাঠ পর্যায়ে অর্থ বরাদ্দের সংকটে স্বাস্থ্য বিভাগেই ক্লান্তিকর হতাশা তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

যদিও গত ৭ই জানুয়ারি জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন স্বাস্থ্য খাতে দেশে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে।


জনপ্রিয় বিষয় সমূহ: