English ছবি ভিডিও
Bangla Font Problem?
শেষ আপডেট ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
ঢাকা, বুধবার , ২০শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

যেভাবে উসমান (রা.)-এর নামে চলছে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail
বার্তা16 অনলাইন মার্চ ৩, ২০২১

ইসলামের তৃতীয় খলিফা ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মেয়ের জামাতা উসমান ইবনে আফফান (রা.) ছিলেন ধনী ও দানশীল ব্যক্তি। জীবদ্দশায় তিনি মানবকল্যাণে বহু সম্পদ দান ও ওয়াকফ করেন। তার সেসব দান ও ওয়াকফকৃত সম্পদ দ্বারা এখনো উপকৃত হচ্ছে।

ঐতিহাসিক রুমা কূপ: মুসলিমরা মদিনায় হিজরত করার পর সেখানে খাবার পানির সংকটে পড়ে। মদিনায় এক ইহুদির একটি কূপ ছিল। সে মুসলিমদের কাছে চড়া মূল্যে পানি বিক্রি করত। কূপটির নাম ছিল রুমা। মহানবী (সা.) বিষয়টি জানতে পেরে ঘোষণা দিলেন, ‘তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যে এই কূপটি কিনে মুসলিমদের জন্য ওয়াকফ করে দেবে? এটা যে করবে আল্লাহ তাকে জান্নাতে একটি ঝরনা দান করবেন। ঘোষণা শুনে উসমান (রা.) ইহুদির কাছে কূপ বিক্রয়ের প্রস্তাব দিলেন। কিন্তু ইহুদি বিক্রিতে অস্বীকৃতি জানাল। অতঃপর উসমান (রা.) অর্ধেক কূপ বিক্রির প্রস্তাব করলেন; এভাবে যে কূপ থেকে একদিন ইহুদি পানি নেবে অন্যদিন তিনি। ইহুদি এতে সম্মত হলো। উসমান (রা.) কূপ কেনার পর বিনা মূল্যে পানি বিতরণ শুরু করেন, এতে ইহুদির পানির ব্যবসা বন্ধ হলো এবং তিনি পুরো কূপ বিক্রি করে দিলেন। ৩৫ হাজার দিরহামের বিনিময়ে উসমান (রা.) পুরো কূপের মালিকানা লাভ করেন এবং তা থেকে মুসলমানরা বিনা মূল্যেই পানি নিত। পরে সর্বসাধারণের পানি পানের জন্য ওয়াকফ করে দেন।

কূপ থেকে আধুনিক হোটেল: আশপাশের জায়গাও কূপের অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিছুকাল পরে সেখানে বেশ কিছু খেজুর গাছ বড় হয়ে উঠল। পরে একসময় এসব গাছ থেকে বিপুল পরিমাণ খেজুর উৎপন্ন হয়। উসমানি সুলতান ও সৌদি শাসকদের পরিচর্যায় এখন এখানে প্রায় ১৬ শর মতো খেজুর গাছ আছে। সৌদি আরব প্রতিষ্ঠার পরে কূপ ও এ বাগান কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিবছর বাগান থেকে আহরিত খেজুর বিক্রি করে যে অর্থ উপার্জিত হয়, তার অর্ধেক এতিম-গরিবদের দান করা হয় এবং অর্ধেক উসমান (রা.)-এর নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হতে থাকে। অ্যাকাউন্টটি পরিচালনা করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

এভাবে ব্যাংকে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হয় যে তা দিয়ে মসজিদ-ই-নববী (সা.)-এর পাশেই আকর্ষণীয় একটি জায়গা কিনে সেখানে একটি পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণ করা হয়, যার নেমপ্লেটে লেখা আছে ‘মালিক সাইয়্যিদুনা উসমান (রা.)। যেহেতু তার ওয়াকফকৃত সম্পত্তি থেকে অর্জিত অর্থে এটি নির্মিত, তাই মালিক হিসেবে তার নামই উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৪-১৫ সালে হোটেলটির নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়েছে। হোটেলের আয়ও উসমান (রা.)-এর অন্য সম্পদের মতো একভাগ এতিম-মিসকিনদের দান করা হয় এবং আরেক ভাগ তার নামে চলিত অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়। -বেলায়েত হুসাইন

আবদুল মুহসিন বিন ফারুক কুরাইশীর প্রবন্ধ ও আল আরাবিয়ার প্রতিবেদন অবলম্বনে।


জনপ্রিয় বিষয় সমূহ: