English ছবি ভিডিও
Bangla Font Problem?
শেষ আপডেট ৩:১২ অপরাহ্ণ
ঢাকা, শুক্রবার , ২৩শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিল্পচর্চার নতুন উদ্ভাবন একোয়াস্কেপিং

Facebooktwitterredditpinterestlinkedinmail
বার্তা16 অনলাইন জুলাই ৫, ২০২০

মাহফুজ হাসান সাকিবঃ

ভাবা যায়, নিজের ড্রয়িং রুমেই ট্রপিকাল আন্ডার-ওয়াটার গুল্মলতা আর ওগুলা নিয়ে খেলাধুলা করতেছে এক্সোটিক রঙ্গিন মাছ? হ্যাঁ, এখন চাইলেই ঘরের মধ্যেই অ্যামাজনের পানির জগতের সৌন্ধর্যের একটুকরা বানায়ে ফেলা যায়, এই ধূসর শহরের মধ্যে থাইকাও সবুজ আর নীল রঙে আঁকা যায় সত্যিকারের একটুকরা পানির নিচের জগৎ: মিঠা কিংবা সাগরপানি, জানা সাপেক্ষে দুইটাই থাকতে পারে এখন ঘরের কোন এক কোনায়। এটা এখন হইছে একধরণের শিল্পকর্ম, যারে বলা হয় একোয়াস্কেপিং, মানে পানির নিচের জগতের এক টুকরা বাগান যেখানে সবই অরিজিনাল। বিশ্বব্যাপী হবিস্টদের কাছে এই শিল্পকর্ম মারাত্মক জনপ্রিয়তাও পাইছে। তাছাড়া এইটা বানাইতে গেলে বুঝা যায় এই পরিবেশ কিংবা বাস্তুতন্ত্র কি পরিমান জটিল সাথে সাথে এইটারে টিকায়ে রাখা কি একটা চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া, এই একোয়াস্কেপিং করলে টের পাওয়া যায় পরিবেশের সাথে আমরা কি করতেছি, কারণ এইখানে সব পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে মেইনটেইন করা লাগে। মাটি, পানি, কিংবা অক্সিজেন বা কার্বনডাইঅক্সাইড, অথবা অন্যান্য মাইক্রো কি ম্যাক্রো এলিমেন্টস কিভাবে কাজ করে, আর একটার অভাবে বা ধ্বংসে কি হইতে পারে আর আমরা কতটা বেপরোয়া, অন্ততঃ পরিবেশ বিষয়ে। এগুলা বুঝা এখন খুব প্রয়োজন। এছাড়াও ঘরে-বাইরে যেই হারে ডিপ্রেশন এর ভোগান্তি বাড়তেছে, এই শিল্পকর্মও হইতে পারে এই মনস্তাত্ত্বিক অশান্তির প্রতিকার।



যাইহোক, একোয়াস্কেপিং এর পুরা ব্যাপারটাই কিন্তু সাইন্টিফিক, ইচ্ছা করলাম আর হইয়া গেলো তা না, জানার আছে, বুঝার আছে।

এখন আসেন এইটার মানে একোয়াস্কেপিং এর এভুলেশন নিয়ে কিছু কথা বলি। এইটা মানে নতুন এই শিল্পকর্ম কিন্তু অনেক দিনের গবেষণার ফলাফল। আগে মিশর কিংবা ইরাক কি গ্রিকদের দেশে কৃত্রিম জলাধারে মাছ রাখার একটা চেষ্টা চালায় তারা, পরে একই কাজে নামে চাইনিজরা আর তাদের হাত ধইরা জাপানিরা এইটারে নিয়ে আসে এক শিল্পের পর্যায়ে, কৃত্রিম জলাধারে নিয়ে আসে গোল্ডফিশ কি কোইফিশ-সহ আরও অনেক অর্নামেন্টাল ফিশ। এগুলা উনিশ শতকের গোড়ার দিককার কথা, যখন কিছু বিজ্ঞানী এই মাছ, পানির নিচের গাছ কি গুল্মলতা আর কার্বনডাইঅক্সাইড এর মধ্যে একটা রসায়ন খুঁইজা পায়, আর ওইসূত্রে ধইরাই চলে একোয়াস্কেপিং এর না না রকমের এক্সপেরিমেন্ট। এরপর দিনে দিনে এর অনেক আধুনিকায়ন ঘটে যার মধ্যে আছে আলো-আঁধারের খেলা, কিংবা পানি ফিলট্রেশান, যাতে করে পানির নিচের জীব ও অণুজীব দুই-ই সতেজ ও সুস্থ থাকতে পারে, এভাবে ভাবতে ভাবতে হবিস্ট-রা বের করে ফেলে এর নানামুখী সংযোজন। এখন এই একোয়াস্কেপিং মিঠা পানির মানে ফ্রেশ ওয়াটারের যেমন হয়, সাগর-পানির তথা সল্ট-ওয়াটার তথা মেরিন-ট্যাঙ্কেরও হয়।

এখন বলি কি কি লাগে এইটা করতে! এইটারে এডভান্সড একুরিয়ামও বলা যাইতে পরে, যদিও ভিন্নতা কিন্তু চরমে। এই প্ল্যান্টেড একুরিয়াম করতে লাগবে নির্বাচিত গাছ, (সব গাছ বা গুল্মলতায় কিন্ত হয়না), গাছ কি মাছের জাত ভেদে নানান ধরণের লাইট, তৈরিকৃত মাটি যা সকল প্রকার নিউট্রিয়েন্ট ও মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট সম্পন্ন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে থিম বা ডিজাইন সাপেক্ষে নানান জাতের পাথর কিংবা কাঠের টুকরা যেনতেন কাঠেও হয়না, বগ কিংবা ড্রিফট কাঠ, আরো লাগবে co2 ও প্রয়োজনীয় ফিলট্রেশন সিস্টেম। এগুলা প্রাথমিক, এছাড়াও অনেক হাইটেক ট্যাংকও হবিস্টরা করতেছে যেগুলা আরো অনেক অনেক ডিটেইল্ড।

আমাদের এই বৈচিত্রপূর্ণ পৃথিবীটাকে আরো কাছ থেকে জানার সুযোগ কইরা দিতেছে এই নতুন শিল্পকর্ম, যা প্রকৃতিকে আরো নিবিড় ভাবে ভালোবাসতে শেখায়, বুঝতে শেখায়, জানতে শেখায়।

প্ল্যন্টেড ট্যাংকটা আমার বাল্য বন্ধু রবিন হাসান রাকিব তৈরী করেছে। আসেন সবাই পরিবেশটারে আরেকটু ভালবাসতে শিখি, আসেন শিল্পচর্চার মধ্যদিয়া ডিপ্রেশন টাইপের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা থেকে বের হইয়া আসি! এই ঘোরলাগা কোয়ারেন্টাইনের দিনগুলারে অপার আনন্দের কাজে ব্যায় করি!

লিখকঃ প্রভাষক, ইংরেজি বিভাগ, উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়।


জনপ্রিয় বিষয় সমূহ: